অনেকক্ষণ জলে থাকলে কুঁচকে যায় হাত পা, পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চমকে দেওয়া যোগ পেলেন বিজ্ঞানীরা

Skin Wrinkle in Water: আগে মানুষ জুতো বা পোশাক কিছুই পরতো না। সারাদিন ভিজে মাটিতেই কাটাতে হতো তাদের। সেই পরিবেশে থাকতে থাকতেই এই অভিযোজন ঘটেছে মানুষের মধ্যে।

Piya Saha
৩ মিনিট
অনেকক্ষণ জলে থাকলে কুঁচকে যায় হাত পা, পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চমকে দেওয়া যোগ পেলেন বিজ্ঞানীরা

খানিকক্ষণ জল ঘাঁটলেই হাতের পাতা, পায়ের চামড়া কুঁচকে কিশমিশের মতো হয়ে যায়। এই ঘটনা আমরা সকলেই লক্ষ্য করেছি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কেন এমন হয়? আরও একটি বিষয় চোখে পড়ার মতো। তা হল, বহুক্ষণ জলে নিমজ্জিত থাকলেও শুধুমাত্র হাতের এবং পায়ের চামড়াই কুঁচকে যায়। শরীরের অন্যান্য অংশের চামড়ার কিন্তু এমন হয়না। সম্পূর্ণভাবে শরীর ডুবে গেলেই একমাত্র দেহের চামড়া কুঁচকে ওঠে। বিজ্ঞানীরা বহু যুগ ধরেই এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করেছেন কুঁচকে যাওয়া ত্বকের সঙ্গে আমাদের শরীরের কী সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় যা উঠে এসেছে তা অবাক করবে আমাদের সকলকে।

গবেষণার ইতিহাস

গবেষণার সময় দেখা গেছে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় থাকা জলে ৩.৫ মিনিট ধরে হাত ডুবিয়ে রাখলেই তা কুঁচকে যেতে শুরু করবে। অন্যদিকে জলের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা জলে প্রায় ১০ মিনিট পর থেকেই এই ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। আবার বেশিরভাগ গবেষণাতেই দেখা গেছে যে ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় হাত পা জলে থাকলে হাতের বলিরেখা সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছচ্ছে। প্রথমদিকে বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন যে হাতের কোশগুলির উপর দিয়ে জল প্রবাহের ফলে ত্বক কুঁচকে যেতে শুরু করে। অভিস্রবন পদ্ধতিতে জল ত্বকের কোশগুলির মধ্যে প্রবেশ করে জল এবং ত্বকের কোশের মধ্যে সমতা রক্ষা করার ফলস্বরূপ এমন ঘটে। কিন্তু ১৯৩৫ সালের এক গবেষণা বিজ্ঞানীদের ধারণা বদলে দেয়। বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন ত্বকের বলিরেখা তৈরির প্রক্রিয়া সঙ্গে আরও বিষয় জড়িয়ে রয়েছে।

চিকিৎসকরা আহত রোগীদের পরীক্ষা করে দেখেছেন, যেসব আহত রোগীদের মিডিয়ান স্নায়ু আঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে ত্বক কুঁচকে যায় না। এই স্নায়ু উত্তেজনা হাতের পাতা থেকে মস্তিষ্কে বহন করে নিয়ে যায়। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায় আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণের ফলেই ত্বক কুঁচকে যায়। পরবর্তীকালে ১৯৭০-এর দশকে চিকিৎসকরা আরও একটি পরীক্ষা করেন। ওই পরীক্ষায় জলে দীর্ঘক্ষণ হাত ডুবিয়ে রাখার ফলে স্নায়ুতন্ত্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপে কী প্রভাব পড়ছে তা বোঝার চেষ্টা করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নতুন টালা ব্রিজে মজে কলকাতা! উচ্ছেদ হওয়া শ্রমজীবী-বস্তিবাসীদের সুদিন আসছে কবে?

Chitpur Slum Eviction: চিৎপুর সেতুর কাছে থাকে প্রায় আশিটির কাছাকাছি পরিবার, ব্রিজ ভাঙার কাজ শুরু হলে তাদের কোথায় পাঠানো হতে পারে, এ বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়

কেন কুঁচকে যায় ত্বক?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চামড়ার উপরিভাগে সিবাম নামক একটি তৈলাক্ত পদার্থ উপস্থিত থাকে। এর কাজ হল চামড়াকে রক্ষা করা আর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা। তবে বেশিক্ষণ হাত জলে থাকলে বা জলের কাজ করলে সিবাম ধুয়ে যায়। ফলে চামড়ার মধ্য দিয়ে জল প্রবেশ করতে শুরু করে তাই আঙ্গুলের ত্বক ওইভাবে কুঁচকে ওঠে।

জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদের ত্বকের তিনটি স্তর রয়েছে।

১. এপিডারমিস,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রথমবার বাবা হওয়ার পর আয়তনে হ্রাস পাচ্ছে মস্তিষ্ক! নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্য বিজ্ঞানমহলে

Brain Plasticity: আপাত দৃষ্টিতে কর্টেক্সের আয়তনে হ্রাস পাওয়ার ঘটনা ক্ষতিকর শুনতে মনে হলেও, এই ঘটনা আদতে সন্তান ও অভিভাবকের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং তার প্রতি স্নেহের টান স্থাপন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

২. ডারমিস

৩. হাইপোডারমিস।

এই এপিডারমিস স্তরে কোনও স্নায়ু থাকে না। স্নায়ু থাকে ত্বকের দ্বিতীয় অর্থাৎ ডারমিস স্তরে। ২০০৩ সালে এক গবেষণায় দেখা যায়, অনেকক্ষণ ধরে হাত জলে ডুবিয়ে রাখার ফলে হাতের রক্তবাহী নালীতে রক্তের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে হ্রাস পেয়েছে। চিকিৎসকরা আরও জানান, হাত জলে থাকলে তা একবারে সাদা দেখায় এর কারণও হল রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া। চিকিৎসক ওয়াইল্ডার স্মিথ এবং তাঁর সহকারী গবেষকরা জানান, অনেকক্ষণ ধরে হাত জলে ডুবিয়ে রাখার ফলে ত্বকে উপস্থিত ঘর্মগ্রন্থির মধ্যে জল প্রবেশ করতে শুরু করে এবং এর ফলে আমাদের দেহে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। লবণের পরিমাণ পরিবর্তনের বার্তা হাতে উপস্থিত নার্ভে পৌঁছলে স্বেদনালীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে থাকা রক্তনালীগুলি কুঁচকে যেতে শুরু করে। এর ফলে আঙ্গুলের মাংসল অংশের আয়তন কমে যায় এবং ত্বক কুঁচকে যেতে শুরু করে। এই কারণে লবণাক্ত জলের তুলনায় মিষ্টি জলে চামড়া বেশি কুঁচকে যায়।

বিবর্তনের ফলাফল

গবেষকদের মতে, এর সঙ্গে আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রার সম্পর্ক রয়েছে। আগে মানুষ জুতো বা পোশাক কিছুই পরতো না। সারাদিন ভিজে মাটিতেই কাটাতে হতো তাদের। সেই পরিবেশে থাকতে থাকতেই এই অভিযোজন ঘটেছে মানুষের মধ্যে। হাতে জল প্রবেশ করলে কোনও বস্তু শক্তভাবে ধরার ক্ষমতা অনেক কমে যায়। তাই ভেজা অবস্থাতেও হাতের গ্রিপ বজায় রাখতে এই পরিবর্তন ঘটে। ২০১৩ সালে নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জলের মধ্যে কুঁচকে যাওয়া ত্বকের কোনও কিছু আকড়ে ধরে রাখার ক্ষমতা অকুঞ্চিত ত্বকের তুলনায় ১২% বেশি। অন্যদিকে পায়ের পাতা কুঁচকে যাওয়ার সুবিধা হল, ভেজা রাস্তার ওপর দিয়ে আমরা যেন সহজেই হেঁটে যেতে পারি।

তবে হাত ও পায়ের ত্বক সবসময় কুঁচকে থাকে না কেন?

এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সর্বদা কুঁচকে থাকলে ত্বকের সংবেদনশীলতা (কোনও কিছু উপলব্ধি করার ক্ষমতা) হ্রাস পায়। তাই কেবল প্রয়োজনের সময়েই চামড়া কুঁচকে যেতে দেখা যায়।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?