বছরে ৩৩ হাজারের বেশি ভূমিকম্প, মৃত্যু কয়েক লাখের! কেন বারবার এমন বিপর্যয় দেখে তুরস্ক?

Turkey Earthquake Prone : ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বারবার ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখে পড়েছে তুরস্ক। কখনও মাঝারি, কখনও তীব্র ভূমিকম্পের ধাক্কা লেগেছে এই দেশে।

Aritra Som
৩ মিনিট
বছরে ৩৩ হাজারের বেশি ভূমিকম্প, মৃত্যু কয়েক লাখের! কেন বারবার এমন বিপর্যয় দেখে তুরস্ক?

কেউ কেউ বলছেন প্রায় ৪৬ সেকেন্ড। আবার কারও বক্তব্য, প্রায় ৩-৪ মিনিট ধরে চলেছে তাণ্ডব। যাই হোক না কেন, তার ‘ফলাফল’ যে কীরকম, সেটা দেখছে গোটা বিশ্ব। ৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবারের সকালটা অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক হতে পারত। কিন্তু মাত্র কয়েকটি সেকেন্ডে সমস্ত কিছু এধার ওধার হয়ে গেল। তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পের বাস্তব ছবিটা এই বর্ণনার থেকেও আরও কয়েকগুণ ভয়ংকর। এখনও অবধি ৫০০-রও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। ২৫০০-র বেশি মানুষ গুরুতর আহত। ভোররাতে ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকেই ঘুম ভেঙে বেরোতে পারেননি। তাই প্রশাসনের আশঙ্কা, এই হতাহতের সংখ্যাটা আরও কয়েকগুণ বাড়বে। চারিদিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের সামগ্রী খুঁজে নিচ্ছেন বাসিন্দারা।

তুরস্ক প্রশাসন জানিয়েছে, ১০ টি জেলায় অন্তত ১৭০০টি বাড়ি একেবারে ভেঙে পড়েছে। ৭.৮ তীব্রতার ভূমিকম্প এবং ৬.৭ তীব্রতার আফটার শক – তারপরও বেশ কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। তাঁদের চোখে মুখে এখনও লেগে রয়েছে আতঙ্কের ছাপ। জানলাগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ছে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে বাড়ি। সেইসঙ্গে রয়েছে প্রবল ঠাণ্ডা। এতগুলো মানুষ, যাঁদের ঘরবাড়ি রাতারাতি ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে, তাঁরা এখন থাকবেন কোথায়? তাঁদের প্রিয়জনদের কি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে? এই শঙ্কাতেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঘুমের মধ্যেই ৫০০-রও বেশি মৃত, শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে যে বীভৎস ছবি দেখল তুরস্ক

Turkey Massive Earthquake : পরপর দুটো ভূমিকম্পের রেশ বেশ কয়েক সেকেন্ড ধরে চলে। আর তার ফলেই ঘটে চরম বিপর্যয়।

তবে এমন ঘটনা তুরস্কে প্রথম নয়। ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সিরিয়া, লেবানন, গ্রিস, সাইপ্রাসের মতো দেশগুলোতেও। সুনামির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বারবার ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখে পড়েছে তুরস্ক। কখনও মাঝারি, কখনও তীব্র ভূমিকম্পের ধাক্কা লেগেছে এই দেশে। মৃত্যুর সংখ্যা কখনও ১০০, কখনও ১৭,০০০। শতাব্দীর ভয়ংকর ভূমিকম্পগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটে গিয়েছে খোদ তুরস্কেও।

যেমন ধরা যাক ১৯৯৯ সালের ১৭ আগস্টের ঘটনা। তুরস্কের মারমারা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটে। ঘটনাচক্রে, এটিও ভোরের দিকেই হয়েছিল। রিখটার স্কেলে ৭.৪ তীব্রতার এই ভূমিকম্পের শেষে দেখা যায়, মৃতের সংখ্যা ১৭,০০০ ছাড়িয়েছে। এটা অবশ্য সরকারি হিসেব। বেসরকারি সূত্রের দাবি, মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩৫,০০০। সেইসঙ্গে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ আহতও হন। বাড়িঘর ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। ঠিক তিন মাস পর, ১২ নভেম্বরে আরও একটি ভূমিকম্প হয় তুরস্কে। ৭.০ তীব্রতার এই ভূমিকম্পের জেরে মারা যান ৮৪৫ জন মানুষ। পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১ মিনিটের ভূমিকম্পেই তছনছ হতে পারে কলকাতা, কতটা বিপদ ঘনিয়ে রয়েছে শহরে?

ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, কলকাতাকে যদি অদূর ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের গ্রাস থেকে বাঁচাতে হয়, তাহলে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনামাফিক নগরায়ন, নইলে ভূমিকম্পে ধ্বংস হতে পারে গোটা কলকাতাই।

তুরস্কের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের (Disaster and Emergency Management Authority) রিপোর্ট বলছে, স্রেফ ২০২০ সালেই ৩৩,০০০-এরও বেশি ভূমিকম্প হয়েছে তুরস্কে! এদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪.০-র থেকে বেশি। কিন্তু এমন কেন? ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর জন্য তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থানই দায়ী।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তুরস্কের বেশিরভাগ অঞ্চলই অ্যানাতোলিয়ান টেকটনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। এই বিশেষ প্লেটটিকে ঘিরে রয়েছে দুটো বড় প্লেট – ইউরেশিয়ান ও আফ্রিকান। পাশাপাশি রয়েছে আরব প্লেটও। প্লেটগুলির চলাচল ও একটির মধ্যে অপরটির ঢুকে পড়ার ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়ে তুরস্কের মূল ভূখণ্ডের ওপর। কারণ, এই প্লেটগুলির সংঘর্ষরেখার ঠিক ওপরেই রয়েছে এই দেশটি।

অ্যানাতোলিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেট যেখানে এসে এক হচ্ছে, সেই জায়গাটিকে বলে উত্তর অ্যানাতোলিয়ান ফল্ট লাইন (North Anatolian fault line)। এটিই সবচেয়ে ক্ষতিকারক জায়গা। এখানেই তুরস্কের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলি ঘটেছে। এদিকে পশ্চিম তুরস্কেও রয়েছে আরও একটি প্লেট – অ্যাগান সি প্লেট। সমস্তটা মিলিয়ে ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকেই অত্যন্ত সংকটময় জায়গায় অবস্থান করছে তুরস্ক। যত দিন যাবে, এই সমস্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তুরস্কের প্রতিটা মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে ভূমিকম্প থেকে বাঁচার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও তৈরি থাকে। কিন্তু তবুও ঘটে যায় দুর্ঘটনা। যেমন ঘটল ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারি মাসে।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।