"আমাকে খুন না করলে ওরা গোল পেতে পারবে না," যে ভাবে অঙ্ক মিলিয়ে দিলেন মার্টিনেজ

Emiliano Martinez Argentina: বিশ্বকাপের ফাইনালে আগে এই মার্টিনেজ বলেছিলেন, "এমবাপের ফুটবল জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে।"

Sourish Das
৪ মিনিট
"আমাকে খুন না করলে ওরা গোল পেতে পারবে না," যে ভাবে অঙ্ক মিলিয়ে দিলেন মার্টিনেজ

আর্জেন্টিনা বিশ্ব ফুটবলের অতিমানব লিওনেল মেসির দল। তবে গত রাতে এই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। একজন নয় বরং আর্জেন্টিনা অতি মানবদের দল, প্রমাণ হয়ে গিয়েছে গতকাল রাত্রে। দুর্দান্ত পারফরমেন্স লিওনেল মেসির। নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে এসে ক্যারিয়ারের সেরাটা খেলেছেন তিনি। ৩৬ বছর বয়সেও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি। তবে এর আগের বিশ্বকাপে কখনও নকআউটে গোল করতে পারেননি তিনি। এবারের প্রতিটি নক আউটে গোল করেছেন।

এ বছরের ফুটবল আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতটি গোল এসেছে কিংবদন্তি মেসির পা থেকেই। গোল্ডেন বুটের বিজেতা যতই কিলিয়ান এমবাপে হন না কেন, টাইব্রেকারে বিশ্বকাপ জিতে 'গোট' বিতর্ক থামিয়ে দিয়েছেন মেসি। তবে শুধুমাত্র মেসির পারফরমেন্সের জোরেই যে বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা, এরকম বলা ভুল। এই বিশ্বকাপে সমান দাপট দেখিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রত্যেক খেলোয়াড়। আর ফাইনালে নিজের সেরাটা দিয়ে আলবিসেলেস্তেদের ভরসা হয়ে উঠেছেন মাটিনেজ।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ক্যারিয়ার মাত্র ২৫টি ম্যাচের এবং তাতেই কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন তিনি। ২০২১ সালে অভিষেক হওয়া মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেরা গোলরক্ষক। মাত্র ২৫ টি ম্যাচের ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতে নিয়েছেন তিনি। মার্টিনেজ ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের ক্ষেত্রে রেখেছিলেন বড় ভূমিকা। সেই কোপা আমেরিকাতে টাইব্রেকারে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর চলতি বছর ইতালির বিপক্ষে ফিনালিসীমা জিতেছেন তিনি। আর এবারে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এটাই শেষ নয়, পরের বিশ্বকাপও খেলবেন বিশ্বজয়ী মেসি?

Lionel Messi: সব ফুটবলাররা মেসি হতে চায়, কিন্তু মেসি হয় মাত্র একজন! আর মৌলিকতার বিদায়-ঘণ্টা না বাজার আবহে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছে ক্রমশ।

২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন কেবলমাত্র একজন দর্শকের ভূমিকায়। সেবার শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে হেরে ছিটকে যেতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। সেদিন গ্যালারিতে বসে নিজের ভাইকে মার্টিনেজ বলেছিলেন, "একদিন আমাকে আর্জেন্টিনার বারের নিচে দেখতে পাবে।" আর সেই দিনটাই সত্যি হলো।

আর্জেন্টিনার ক্লাব ইন্ডিপেনডিয়েন্টেতে যখন খেলেছিলেন মার্টিনেজ, তখন তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল ডিবু। আসলে মার্টিনেজকে আর্জেন্টিনার একটি সোপ অপেরা, 'মি ফ্যামিলিয়া এস উন ডিবুজো'-এর একটি চরিত্রের মতো দেখাত। বলা বাহুল্য, এই সোপ অপেরা আর্জেন্টিনার প্রথম লাইভ অ্যাকশন অ্যানিমেটেড শো ছিল। কিন্তু এমির ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ওঠার কাহিনি এতটা সহজ ছিল না। মাত্র ১৭ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইংল্যান্ডে ফুটবল খেলতে আসেন মার্টিনেজ। সই করেন আর্সেনালের হয়ে। কিন্তু তাঁকে নিচুস্তরের লিগের ক্লাবগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মেসি যখন একটি মরশুমে ৯৩ গোলের ইতিহাস তৈরি করেছিলেন, এমি মার্টিনেজ তখন ইংল্যান্ডের নিম্ন স্তরের লিগে অক্সফোর্ড ইউনাইটেড খেলতেন।

ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা এবং অসাধারণ চরিত্রের মাধ্যমে সবার নজরে চলে আসেন মার্টিনেজ। একেবারে বড় সুযোগ আসে ২০২০ সালে। সেই সময় আর্সেনালের গোলকিপার বেন্ড লেনো চোট পেয়ে গোটা মরশুম থেকে ছিটকে যান। আর গানার্সদের হয়ে গোলপোস্ট রক্ষণের দায়িত্ব পান মার্টিনেজ। তবে আর্সেনালে বেশিদিন থাকা হয়নি তাঁর। আর্সেনালের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণে তিনি সই করেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আরেকটি দল অ্যাস্টন ভিলাতে। সেখানেও ক্রমাগত ভালো পারফর্ম করতে শুরু করেন এমি মার্টিনেজ। আর সেখান থেকেই আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনির নজরে আসেন মার্টিনেজ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রথম ম্যাচে হেরেও বিশ্বজয়! কেন রূপকথাকেও হার মানাবে মেসিদের এই যাত্রা?

World Cup Champion Argentina 2022: ইনফান্তিনোর হাত থেকে বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মেসি। আস্তে আস্তে ট্রফি হাতে নিয়ে এগিয়ে যান দলের দিকে এবং তারপর...

সময় অত্যন্ত দ্রুত বদলে যায়। ২০১৮ সালে যে গোলকিপারকে চিনত না কেউ, সেই মার্টিনেজ ২০২২ সালে মেসির হাতের তুরুপের তাস। তাঁর ভাইকে বলা কথাগুলো মিলে গিয়েছে অক্ষরে অক্ষরে। গোটা আর্জেন্টিনা দেখেছে এতদিন তাঁর হাতেই সুরক্ষিত রয়েছে আর্জেন্টিনার গোল বক্স। আর্জেন্টিনার ডাকাবুকো গোলকিপার তিনি। ফাইনাল যখন টাইব্রেকারে এসে পৌঁছলো, তখন তিনি মেসির মসিহা। আর্জেন্টিনার সমস্ত ভরসার জায়গা তিনি। ফাইনালেও তিনি রক্ষাকর্তা। টাইব্রেকারে তাঁর ওই গ্লাভস থামিয়ে দিল কোমানের শট।

কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে সেমিফাইনালে এসেছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও, পরবর্তীতে ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ডাচদের কাম ব্যকের পর যখন স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা, তখন মার্টিনেজ মেসিকে আশ্বস্ত করেছিলেন, "আমি তো আছি।" সত্যিই তিনি সেদিনের ম্যাচে অতিমানব হয়ে হাজির হয়েছিলেন এবং ফিরিয়ে দিয়েছিলেন দু'টি শট। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন মার্টিনেজ।

আর এবারের ফাইনালে টাইব্রেকারে নিজের চাপ সামলানোর অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার এই গোল রক্ষক। এই ম্যাচে ২-০ গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে ২-২ করে দেন এমবাপে। অতিরিক্ত সময়ে মেসি গোল করলেও পেনাল্টিতে আবার গোল করে ফ্রান্স। ফলে ১২০ মিনিট খেলা শেষের পর ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-৩। কিন্তু, টাইব্রেকারে ফ্রান্সের চারটে শটের দু'টি দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি বাজপাখি, কেন তিনি পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ।

এই মার্টিনেজ একবার বলেছিলেন, মেসির জন্য তিনি জীবন দিয়ে দিতে পারেন। এই মার্টিনেজ ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের বিরতির সময় সতীর্থদের অভয় দিয়ে বলেছিলেন, "তোমরা খেলে যাও, আমি পিছনে রয়েছি। আমাকে খুন না করলে ওরা গোল পেতে পারবে না।" বিশ্বকাপের ফাইনালে আগে এই মার্টিনেজ বলেছিলেন, "এমবাপের ফুটবল জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে।" যদিও আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিলেন এমবাপে নিজেই। তিনি বলেছিলেন, "দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলি বিশ্বকাপে পৌঁছনোর মতো উঁচু মানের ফুটবল খেলে না। দক্ষিণ আমেরিকায় ফুটবল ইউরোপের মত অতটা উন্নত নয় এবং এই কারণেই গত কয়েকটি বিশ্বকাপে ইউরোপ জিতেছে।" শুধুমাত্র মাঠের বাইরে নয়, মাঠের ভিতরেও এমবাপেকে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে এমবাপেকে শিক্ষা দেওয়া এত সহজ ছিল না। এমবাপে হয়তো তাঁর থেকে ভালই খেলতে জানেন ফুটবলটা। কিন্তু, টাইব্রেকারে চমক দিলেন এই মার্টিনেজ। হয়ে উঠলেন ফাইনালের নায়ক।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।