যে কোনও স্থানে মাত্র ১২০ সেকেন্ডে গভীর ঘুমাতে পারেন আপনি এই মিলিটারি কৌশলে, কীভাবে?

Military Sleeping Technique: এমনকী কফি খাওয়ার পরেও, কানের কাছে মেশিনগান চললেও এই ঘুম সম্ভব।

inscript
৩ মিনিট
যে কোনও স্থানে মাত্র ১২০ সেকেন্ডে গভীর ঘুমাতে পারেন আপনি এই মিলিটারি কৌশলে, কীভাবে?

অনুশাসন। সর্বং সহা শরীরকে চাইলে এই অনুশাসনেই বশে রাখতে পারে মানুষ। তারপর চাইলেই তাকে দিয়ে ঘটিয়ে ফেলতে পারে দুর্ধর্ষ সব কার্যকলাপ। সাধারণ মানুষ যা করতে নাজেহাল, এই অনুশাসকরা হেলায় সেসব করে তাক লাগিয়ে ফেলেন। তবে কোনও কিছুই সহজসাধ্য না। দীর্ঘদিনের কঠিন অনুশীলনে শরীরের জৈবিক ক্রিয়ার উপর অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ পাওয়া সম্ভব। যেমন পেয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। চরমতম পরিস্থিতিতে আদিম জীবের মতো টিকে থাকতে গেলে কী কী ভাবে নিজের দেহ মনকে প্রস্তুত করতে হয় তা জানেন তারা। তাঁদের খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে প্রকৃতির চরম অবস্থানে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল, একইসঙ্গে শত্রুর দিকে নজর ও নিজের নিরাপত্তা সবটুকুই মাথায় রেখে কীভাবে শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহলের। সাধারণ মানুষ ঘুমহীনতায় ভুগছে, পর্যাপ্ত ঘুম নেই, চেষ্টা করেও ঘুম আসে না। অথচ চাইলে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে যে কোনও জায়গায় ঘুমিয়ে পড়তে পারেন আপনি। শরীরকে চার্জ করার এই মিলিটারি কৌশলের জন্য অবশ্য প্রয়োজন অনুশীলন, দীর্ঘ অনুশীলন।

এই যেখানে খুশি ২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার কৌশলটি মূলত ফাইটার পাইলটদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যাদের কাছে ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন মনোসংযোগের জন্য। এই ২ মিনিটে ঘুমের কৌশলটিতে সৈন্যরা যে কোনও সময় এবং যে কোনও জায়গায় ঘুমিয়ে পড়তে পারেন, এমনকী যুদ্ধক্ষেত্রেও। কীভাবে সম্ভব এমন চরম পরিস্থিতিতে, শব্দে আলোতে, বিপদের মাঝে গভীর ঘুমিয়ে পড়া? এই মিলিটারি কৌশলের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে দেহেই। আমাদের পেশিগুলিকে আলগা করতে পারলেই এই ঘুম সম্ভব। প্রশিক্ষকরা বলছেন, শুরুটা করতে হবে কপাল দিয়ে। কপালের পেশিগুলি শিথিল করতে হবে সবার আগে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বেশি অথবা কম ঘুম দুইই কাল হতে পারে শরীরের! জানেন সুস্থ থাকতে কোন বয়সে কতটা ঘুম জরুরি?

Sleep : কিছুতেই ঘুম আসে না? কিংবা যখন ঘুমাচ্ছেন অনেক বেশি সময় পরও ক্লান্তি কাটছে না? দুইই হতে পারে বিপদের কারণ। জেনে নিন কোন বয়সে কতটা ঘুম জরুরি।

ধীরে ধীরে চোখ, গাল, চোয়াল শিথিল করার পর এবং শ্বাস প্রশ্বাসের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে। তারপর ঘাড় এবং কাঁধ আলগা করে দিতে হবে। কাঁধে যাতে কোনও রকমের চাপ না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। কাঁধ যতটা সম্ভব নীচে নামিয়ে, আঙুল সহ দুই হাত শরীরের দু'পাশে আলগা করে ছেড়ে দিতে হবে। মনে মনে ভাবুন, একটা উষ্ণ স্রোত আপনার মাথা শুরু করে আঙুলের ডগা পর্যন্ত ছড়িয়ে যাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঘুমোতে দেয় না যুদ্ধের স্মৃতি, বিরল রোগে দীর্ঘ ৬০ বছর একটানা জেগে ভিয়েতনামের বৃদ্ধ

Sleepless man of Vietnam: একটানা ৬০ বছর ঘুমোননি থাই নক। অথচ শরীরে কোনও ক্লান্তি নেই... কেন জেগে থাকেন তিনি?

গভীরভাবে শ্বাস নিতে হবে এবং ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। এই করতে করতেই আপনার বুক, পেট, উরু, হাঁটু এবং পায়ের ডগা পর্যন্ত সারাটা শরীর শিথিল করতে হবে। এই মুহূর্তে, যে কোনও রকমের চাপ মন থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এই কাজটি শুনতে যতই সহজ মনে হোক না কেন, আদতে কী বীভৎস কঠিন তা কল্পনাতীত। কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন, অথচ নিজেকে সমস্ত চাপ থেকে মুক্ত করে ফেলতে পারছেন- এমনটা কীভাবে হতে পারে? এটি করার একটি সহজ কৌশল হলো কল্পনা। মানুষের মন সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যদি ওই মুহূর্তে নিজেকে ভাবাতে পারেন যে আসলে আপনি পরিষ্কার আকাশের নিচে, শান্ত হ্রদের পাশে শুয়ে আছেন, পাহাড়ের কোলে সবুজের মধ্যে শুয়ে আছেন, অথবা অন্ধকার ঘরে কালো মখমলের নরম বিছানায় শুয়ে আছেন, দেখবেন চারপাশের চরম অবস্থা ফিকে হয়ে আসছে।

যদি এই করতে করতে কয়েক লহমার জন্য বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, ভুলভাল চিন্তা ঢুকে পড়ে ফের, মনে মনে ১০ সেকেন্ড বলুন, আমি এসব ভাবছি না, ভাববই না। বারেবারে বলতে বলতে আগের শান্ত অবস্থায় ফিরে আসতে পারবেন আবার।

এই কৌশলটি মূলত রিল্যাক্স অ্যান্ড উইন: চ্যাম্পিয়নশিপ পারফরম্যান্স নামের একটি বই থেকে নেওয়া। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এই বই। পরে অবশ্য এই নিয়ে নানা নিবন্ধই প্রকাশিত হয়। টানা ছয় সপ্তাহের অনুশীলনের পর, ৯৬ শতাংশ পাইলট দুই মিনিট বা তারও কম সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। এমনকী কফি খাওয়ার পরেও, কানের কাছে মেশিনগান চললেও এই ঘুম সম্ভব। যদিও পরীক্ষায় পাইলটদের চেয়ারে সোজা হয়ে বসে ঘুমাতে বলা হয়েছিল, তবে বিছানাতেও একই কাজ করা সম্ভব।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।